শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৬

আঁধার আমার হলই যখন, তোমার থাকুক আলো

অন্তরে অন্তরা,
জানি আমার এ লেখা তুমি পড়বেনা কোন দিন। তারপরও লেখা। হয়তো আমি নিজেকেই লিখছি।

কাল পহেলা বৈশাখ ছিল। একসময় তোমার উচ্ছলতায় এই দিনটি নানাভাবে ব্যস্ত থাকতো। আজ একেবারেই নিরব, আমার জন্য। পৃথিবী তার আপন গতিতে, আপন মনে চলছে। আমাকে তার আর প্রয়োজন নেই। হয়তো কোনদিন ছিলও না। আমারই মনের ভুল। ভেবেছিলাম আমার চাওয়ার শুদ্ধতায়, ভাললাগায়, সবার জীবন ভরে উঠবে। সুন্দর হয়ে যাবে সব আমার একটু স্পর্শ। তুমিই ঠিক ছিলে, আমার ছিল ভ্রম। আমার ছোঁয়া কালো করে দেয় সব। তোমাকে ছুঁয়ে দিলাম, আর তোমার জীবনটা বিষময় হয়ে গেল। আমাকে ছেড়ে ভালই করেছ। নিজের জন্য সুন্দর একটা জীবনতো পেয়েছো। আমি কোনভাবেই আর তোমার জীবনকে ছুঁতে চাই না। আর কোন অন্ধকার আমি তোমাকে উপহার দিতে চাই না। আর তাই এই চিঠি আমি তোমাকে পাঠাবো না। ভালো থেকো। আরও সুন্দর হয়ে উঠো। 

আমার হাত
একসময় গড়ে তুলতো ছোট খেলনা,  
কাঠের মূর্তি।
পেন্সিলের আচঁড়ে জীবন পেত
এলোমেলো ভাবনা।

জীবনের গান
সুরে আর বানীতে পেত ঠিকানা,
সুন্দরের আরতি।
গড়ে তোলার স্বপ্নগুলি ছিল
প্রচন্ড শক্তিমান।

আধার হয়ে আসা
জীবনের মধ্যাহ্নে
সবই অর্থহীন।

আমার ছোঁয়া, কালো করেছে সব
আমার ভুল, ধংস করেছে সব
আমার ভালবাসা, অর্থহীন প্রলাপের কথকতা
আমার স্বপ্ন, সে শুধুই  
আঁধার হয়ে আসা।

প্রার্থনা আমার
ছুঁতে না হয় কোন জীবন কোনদিন
বাসতে না হয় ভাল। 
আঁধার আমার হলই যখন
তোমার থাকুক আলো।

শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

প্রতীক্ষার বসতঘর

রাত্রি,
আমার অবসর
নিদারুন প্রতীক্ষার,
নিরাপদ বসতঘর।

তিরানব্বই থেকে চৌদ্দ
বাইশটি বছর।

হাত ধরে পথ চলা
কানাকানি কথা বলা
বন্ধু আমার, সাথী হবার
আয়োজনে বয়ে যাওয়া
তিরানব্বই থেকে চৌদ্দ 
- বাইশ বছর

এর আগেও বসন্ত এসেছে পৃথিবীতে। আমার সেই প্রথমবার। একুশ আমার বয়স তখন। 
দিনক্ষণের হিসাব সঠিক বুঝিনি কোনকালেই। অনুযোগ গুলি দলবেধে আজ বারবার আমার সাথে দেখা করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তির দিনে, তাই তিরানব্বই সালের আজকের দিনে ফিরে যাচ্ছি বারবার। স্বেচ্ছায় নয় আবার অনিচ্ছায়ও নয়।

বেলা তিনটা বাজতে আর বেশী বাকি নেই। আমার বাইশ বছরের যাত্রার আরম্ভ ঘটবে একটু পরেই তেইশ বছর আগের এই দিনে। হয়তো অন্য কোন জন থাকবে আমার যায়গায়, তোমার যায়গায় অন্য কেউ। 

আজ সরঃস্বতী পূজা। এই একটি পূঁজাতেই অঞ্জলী নিতে আমার মন চায়। প্রস্তুতিও চলে সেভাবেই। সকালে উঠে স্নান সেরে, ধরাচূঁড়া চাঁপিয়ে, আয়নায় তাঁকাতে হঠাৎ আবিস্কার করলাম, যা পরেছি তার সবই আমার জন্য তোমার কেনা পোষাক। সম্ভবত সর্বশেষ। একরাশ আনন্দের আভরণ সজ্জিত আমি একরাশ শুন্যতা ভিতরে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে নামি।

একসাথে চলার পথটা আমরা এত ছোট করে ফেললাম কেন? এ প্রশ্নের উত্তর, তোমার হয়তো প্রয়োজন নেই তবে আমি হয়তো খুঁজতেই থাকবো।

তিরানব্বই সালে তোমার পাশে আমাকে মানাতো কিনা আমি জানি না, মাথাও ঘামাইনি কোনদিন, তবে আজ মানাবে না তা নিশ্চিত। পথ ছোট হওয়ার জন্য যুৎসই একটা কারন কি বল?

আজ
আমি ও আমার প্রান
ক্লান্ত তবুও অপেক্ষায়।
খোলা রয় সেলফোন,
অকারনে অনিমেষ প্রতীক্ষায়।

আশা নয় অপেক্ষা,
প্রত্যাশা নয় প্রতীক্ষা।

আমার অবসর
অন্তহীন প্রতীক্ষার
অতন্দ্র বসতঘর।।

মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৫

চার দেয়ালের ঘর

আসলে ওটা ঘরই ছিল, তুমি ভাবলে চারদেয়াল।

মান-অভিমান, কান্না-কাটি
না বুঝে কিছু হল্লা-হাটি,
হঠাৎ হাসির কুটো-পাটি, 
চকিত ছোঁয়ায় অনেক পাওয়া
অল্প পাওয়ায় ভেসে যাওয়া,
অনেক চাওয়া অল্প পাওয়া
ছিল সবই যায়গা মত।

আসলেই ওটা ঘর ছিল, ঘিরে ছিল চারটে দেয়াল

ছিল তোমার সুরের খেয়াল, আমার যত বইগুলি
জলতরঙ্গ উঠতো বেঁজে,
সন্ধ্যা এসে মধুর সাঁজে
সাঁজিয়ে দিয়ে খোঁপাখানি,
রাঙ্গিয়ে কথার কলধ্বনি,
বিদায় নিত মুচকি হেসে,
তোমায়-আমায় একলা রেখে, চার দেয়ালের মাঝখানে।

সত্যি ওটা ঘরই ছিল, কেন ভাবলে চারদেয়াল?

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

নিমেষ গণন হয় নি কি মোর সারা

সুহাসিনী,
অনেক দূরে আছো কোথাও,
নিজের ঠকানা নিয়েছো খুঁজি।
যাবার বেলায় বিদায় বলার
কষ্ট পেয়েছো বুঝি।।

প্রশ্ন জানাই পুষ্পবিভোর
ফাগুন মাসে, কী আশ্বাসে
হায় গো আমার ভাগ্য রাতের তারা
নিমেষ গণন হয় নাকি মোর সারা।