মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৫

চার দেয়ালের ঘর



আসলে ওটা ঘরই ছিল, তুমি ভাবলে চারদেয়াল।

মান-অভিমান, কান্না-কাটি
না বুঝে কিছু হল্লা-হাটি,
হঠাৎ হাসির কুটো-পাটি, 
চকিত ছোঁয়ায় অনেক পাওয়া
অল্প পাওয়ায় ভেসে যাওয়া,
অনেক চাওয়া অল্প পাওয়া
ছিল সবই যায়গা মত।

আসলেই ওটা ঘর ছিল, ঘিরে ছিল চারটে দেয়াল

ছিল তোমার সুরের খেয়াল, আমার যত বইগুলি
জলতরঙ্গ উঠতো বেঁজে,
সন্ধ্যা এসে মধুর সাঁজে
সাঁজিয়ে দিয়ে খোঁপাখানি,
রাঙ্গিয়ে কথার কলধ্বনি,
বিদায় নিত মুচকি হেসে,
তোমায়-আমায় একলা রেখে, চার দেয়ালের মাঝখানে।


সত্যি ওটা ঘরই ছিল, কেন ভাবলে চারদেয়াল?

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

নিমেষ গণন হয় নি কি মোর সারা

সুহাসিনী,
অনেক দূরে আছো কোথাও,
নিজের ঠিকানা নিয়েছো খুঁজি
যাবার বেলায় বিদায় বলার
কষ্ট পেয়েছো বুঝি।।


প্রশ্ন জানাই পুষ্পবিভোর 
ফাগুন মাসে কী আশ্বাসে
হায় গো আমার ভাগ্য রাতের তারা
নিমেষ গণন হয় না কি মোর সারা।

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৫

ফিরে দেখা পথচলা

সময় হয়েছে ফেলে আসা পথটির দিকে ফিরে তাকাবার। নিজের স্মৃতিকে যাচাই করে দেখার। আর তাই তোমার আমার পথচলার সময়টা ফিরে দেখতে শুরু করেছি। লিখে রাখা জরুরী নয় তার পরও লিখছি। তাতে করে একটু সময় হয়তো তোমার সাথেই কাটবে। হোক না অতীত, তোমার বিস্মৃতি প্রয়াসের কাল। আমার জন্য তা সত্য ও সুন্দরের আরম্ভ। এসবই একান্ত আমার নিজের স্মৃতি, ভাবনা আর কথা।  

প্রথম দেখা

একুশ বছর একটা অদ্ভুত বয়স। ভাল লাগা ভালবাসা নিয়ে অযথাই নিজের সাথে বিতর্ক করার সময়। সকালের রোদ্দুর তখনও সঠিক মেজাজে ছিল, মানে যতটা মেজাজ সদ্য তরুনের মনে ও শরীরে জ্বালা না ধরায়। সাদা পোশাকে অসম্ভব স্নিগ্ধতা নিয়ে যে মেয়েটি আমার সামনে দিয়ে হেঁটে গেল তার সাথেই আমার জীবনে ২২ বছরের আনন্দ-বেদনার কথা রচিত হবে এটি হয়তো নিয়তি ছিল। পাশে দাড়িয়ে থাকা বন্ধুটিকে একটি কথাই বলেছিলাম- "যদি এই মেয়েটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তাহলে এর সাথেই আমার প্রেম হবে"। ঐ সময়ে এরকম ভাবনা সবার মনেই আসত হয়তো। বন্ধুটি বলেছিল- "যদি হয় তবে দুজনকে প্রথম চাইনিজ আমি খাওয়াবো"। বন্ধুটি কথা রেখেছিল। আমিও।

পহেলা ফাল্গুন

সারা সপ্তাহের প্রচন্ড পরিশ্রমে সফল হওয়া প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন শেষে যখন একটু বিশ্রাম আমার আমার একমাত্র চাওয়া, ঠিক তখন আমার জীবনে প্রথম ফাল্গুন নিয়ে এলে। জানালে ভালবাসা। ভালবাসা কাকে বলে তখনও আমার অজানা। আমি বলেছিলাম "এ তোমার মোহ, কিছুদিন পরে কেটে যাবে"। বলেছিলে কাটবে না। আঠার বছরের তুমি হয়তো অনেক কষ্টে তোমার কথা টেনে নিয়ে গেছ পরের বাইশটি বছর। আমাকে টানতে হবে বাকিটা জীবন।

প্রথম ছোঁয়া

সেদিন আমি জেনেছিলাম আমার জীবন তোমার সাথেই বাঁধা। পাশে থাকো বা না থাকো, সাথে না থাকা অসম্ভব। আমি জেনেছিলাম ভালবাসা আর ভাল লাগার ফারাক। একটি ছোঁয়ার দাম আমার সারাজীবন, গোটা অস্তিত্ব। স্বপ্ন দেখার শুরু। নিজের ভিতর অন্য আমির জেগে উঠা। সেদিন জানা হল ভালবাসা এক পথচলার নাম, গন্তব্যের নয়। নিজেকে সঁপে দিলাম এক অন্তহীন পথচলায়। চলতে চলতে বুঝলাম এ পথচলার আনন্দই পথচলার শক্তি যোগায়।  

সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৪

চিঠির পর

সুচরিতাসু

             ভেবেছিলাম চিঠি লেখা হয়ে গেলে হালকা হয়ে উঠবে বুকটা। হয়েছিলও তাই। তবে দিন যতই রাতের দিকে গড়াতে থাকল ততই নিজের মনে সন্দেহ বাড়তে থাকল " সত্যিই কি আমি কোন উত্তরের প্রত্যাশা করছিনা "। অনেক অস্থির হয়ে উঠেছিলাম। শেষ পর্যন্ত নিজের সাথে একটি রফায় এলাম। রাত্রির রহস্যময়তার কাছে নিজেকে সমর্পন করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

রাত্রি,
        রাতের সাথে মিত্রতা আমার অনেক দিনের। অনেক বেশি নিজেকে চেনার সুযোগ ঘটে এসময়টায়। নজর দিতে পারি নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্য এক রহস্যময় মানুষের সাথে যোগাযোগের দিকে। ভোর রাতের দিকে সেই রহস্যময়তা আমাকে জানিয়ে গেল আমি এখনও প্রস্তুত নই সত্য জানার জন্য।

আমি রাত্রিকে ভালবাসি আবার ভয়ও পাই একই সাথে। রাতের ঘুম আমার ভয়ের উৎস হয়ে আছে অনেক বছর ধরে। আসলে ঘুমের অনুষসঙ্গী স্বপ্নে আমার ভয়। না চাইতেও সত্যে পরিণত হওয়া স্বপ্নগুলি আমি আর দেখতে চাই না। কিন্তু দেখতে হয়। অনেক বছর আগে তোমাকে নিয়ে দেখা একটি ভয়ংকর স্বপ্ন আজ আমার বাস্তব সময়। সেই স্বপ্নের কথা তোমাকে বলেছিলাম। তুমি বলেছিলে এ তো ভয়ংকর ব্যাপার। আজ সেই ভয়ংকর বিষয়টাই বাস্তব।

আমি উত্তরের প্রত্যাশা করি নি কিন্তু অপেক্ষা করে আছি। কেন জানিনা। তোমার খবর জানার কোন উপায় নেই। কিন্তু ইদানিং বড় বেশী জানতে ইচ্ছে করে। কেন জানিনা। আমার ফোনের জবাব দেবেনা, এস এম এস এর উত্তর দেবেনা জানি। কিন্তু শুধু এটাই জানিনা কেন

যা, যেভাবে চেয়েছিলে তার প্রায় সবটাই তো পেয়েছো। 

আমার এক বন্ধু আমাকে বলল আমার বোকামী হয়েছে। সব সময় সব দায় নিতে নেই। হয়তো তার কথা সত্যি। হয়তো না। আমি শুধু একটা বিষয়ই জানি সব সময় বুদ্ধিমান হওয়া যায় না। প্রয়োজন নেই। 

আমার পাশে অনেকেই আছে। তারপরও একা কেন লাগে জানিনা। যাদের কাছে তোমার খবর জানতে চাইতে পারি তারা সাড়া দেয় না। আগেও হয়েছে এমনটা। কি করি। নিজেই যাব তোমার কাছে

যাব একদিন। দাড়াবো সামনে গিয়ে। কোন অধিকার নিয়ে নয়। শুধু দেখতে কেমন আছ। 

এর মধ্যেই যদি অন্য কারো হয়ে গিয়ে থাক তবে ভীষণ বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার হবে। শুধু যদি কেউ আমাকে জানাতো, তোমার জীবনে আমার আর কোন প্রয়োজন নেই তবে সবাইকে বিব্রত করার কাজটা বন্ধ করে দিতে পারতাম। 

কেন জানিনা ফুপুর কাছে শোনা তুমি বলেছিলে " আমি তোমার ছিলাম তোমার থাকবো " কথাটি বিশ্বাস করতে বড় সাধ হয়। সাহস হয় না। 

আমি ভালবাসি এ আমার জানা। আমি এখনও প্রেমে পরে আছি এটা আবিস্কার করে নিজেকে কেমন জানি মানুষ মানুষ মনে হচ্ছে। আমার ভিতরেও একটা মানুষ বাস করে, যে কিনা অনেকের মতই রক্ত মাংশের ব্যাপারটা সবার জন্যই হয়ত একটু অবাক করা। আমার নিজের জন্যও।

ভাল থেকো।